Types of Securities (Equity, Bonds, Mutual Funds, ETFs)
বাংলাদেশের শেয়ার বাজারকে বোঝার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো— “সিকিউরিটিজ” বা আর্থিক দলিলের ধরন। যখন আমরা শেয়ার মার্কেট বলি, তখন তা শুধু “শেয়ার কেনাবেচা” নয়, বরং বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগ যন্ত্রের (financial instruments) সমন্বয়ে গঠিত একটি জটিল কিন্তু কার্যকরী ব্যবস্থা। এই বিনিয়োগ যন্ত্রগুলোর প্রধান চারটি ধরন হলো
Equity, Bonds, Mutual Funds,** এবং **ETFs (Exchange Traded Funds
১. Equity- শেয়ার বা মালিকানার অংশ: Equity মানে হলো কোনো কোম্পানির মালিকানার অংশ। যখন আপনি একটি কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করেন, তখন আপনি সেই কোম্পানির আংশিক মালিক হয়ে যান। এর ফলে কোম্পানি লাভ করলে আপনি **ডিভিডেন্ড** পান এবং কোম্পানির মূল্য বেড়ে গেলে আপনার শেয়ারের দামও বাড়ে। তবে কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেই প্রভাব আপনার বিনিয়োগের উপরও পড়ে।বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে যেমন – Square Pharmaceuticals, Grameenphone, British American Tobacco ইত্যাদি কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করা মানে আপনি তাদের মালিকানায় অংশ নিচ্ছেন।
২. Bonds (ঋণমূলক দলিল): Bond হলো এমন একটি দলিল যার মাধ্যমে আপনি সরকার বা কোনো কোম্পানিকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঋণ দেন। তারা সেই ঋণের বিনিময়ে আপনাকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর সুদ প্রদান করে এবং মেয়াদ শেষে মূল অর্থ ফেরত দেয়।Bonds হলো তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বিনিয়োগ, কারণ সাধারণত সরকার বা বড় কোম্পানি এটি ইস্যু করে। বাংলাদেশে উদাহরণ হিসেবে বলা যায় – Bangladesh Government Treasury Bond বা Corporate Bond যা এখন ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে।
৩. Mutual Funds সমবায় তহবিল: Mutual Fund হলো এমন একটি তহবিল যেখানে অনেক বিনিয়োগকারীর টাকা একত্রিত করে তা পেশাদার ফান্ড ম্যানেজার বিভিন্ন শেয়ার, বন্ড বা অন্যান্য সম্পদে বিনিয়োগ করেন।এটি বিশেষ করে তাদের জন্য উপযোগী যারা নিজে নিজে শেয়ার বিশ্লেষণ করতে চান না বা সময় পান না। বাংলাদেশে ICB AMCL, LankaBangla MF, LR Global Bangladesh MF ইত্যাদি মিউচুয়াল ফান্ডের উদাহরণ।
৪. ETFs (Exchange Traded Funds): ETFs কিছুটা Mutual Fund-এর মতো, তবে পার্থক্য হলো— ETF শেয়ার মার্কেটে লেনদেন হয় ঠিক সাধারণ শেয়ারের মতো। অর্থাৎ, আপনি দিনের যেকোনো সময়ে ETF কিনতে বা বিক্রি করতে পারেন। এটি অনেক সময় কম খরচে বৈচিত্র্যপূর্ণ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়।যদিও বাংলাদেশে ETF এখনো তেমন জনপ্রিয় নয়, ভবিষ্যতে এটি একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে দেখা যাচ্ছে।—
কেন সিকিউরিটিজ সম্পর্কে জানা জরুরি? কারণ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত সবসময় “ঝুঁকি” এবং “রিটার্ন”-এর ভারসাম্যের উপর নির্ভর করে। কেউ যদি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল রিটার্ন চান, তবে Bond বা Mutual Fund উপযুক্ত হতে পারে। আবার কেউ যদি উচ্চ রিটার্নের আশা করেন এবং ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত থাকেন, তাহলে Equity বা ETF হতে পারে সঠিক পছন্দ।সঠিকভাবে বুঝে ও বিশ্লেষণ করে বিনিয়োগ করলে সিকিউরিটিজ আপনাকে আর্থিক স্বাধীনতার পথে নিয়ে যেতে পারে।আজ থেকেই শুরু করুন — জানুন, শিখুন, তারপর বিনিয়োগ করুন।